× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হবিগঞ্জ : নদী ছিল, নদী নেই!

আশরাফুল ইসলাম কহিনুর

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৫ ১৩:৫৮ পিএম

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৫ ১৪:০৭ পিএম

শিল্পায়নের বর্জ্য ও দখলে অস্তিত্ব সংকটে হবিগঞ্জের সুতাং নদী

শিল্পায়নের বর্জ্য ও দখলে অস্তিত্ব সংকটে হবিগঞ্জের সুতাং নদী

একসময় হবিগঞ্জ জেলা ছিল নদীঘেরা। হাওর অধ্যুষিত এই জেলার জীবন-জীবিকা ও বাণিজ্যের প্রধান মাধ্যম ছিল নদী। নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে জেলা শহরসহ প্রতিটি উপজেলা। সত্তরের দশকে এই জেলায় নদীর সংখ্যা ছিল ৫০টিরও বেশি। আর সরকারি হিসাবে বর্তমানে জেলার নদীর সংখ্যা মাত্র ২২টি। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি নদীর চিহ্নও এখন নেই। সেইসঙ্গে বিলীন হয়েছে নদীর সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য খালও।

এক সময়কার খরস্রোতা কুশিয়ারা, কালনী, খোয়াই, ধলেশ্বরী, রত্মা ও করাঙ্গীর মতো বড় নদীও আজ প্রবাহ হারিয়েছে। কোথাও স্রোত নেই, কোথাও পানি-ই থাকে না। বর্ষাকাল ছাড়া সারা বছর নদী খুঁজে পাওয়া দায়। অনেক নদীর পাড় দখল হয়ে সেখানে গড়ে উঠেছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ-মন্দির। দীর্ঘদিন ড্রেজিং না হওয়ায় অনেক নদী ভরাট হয়ে সমতল জমির মতো দেখায়।


হবিগঞ্জ শহরের খোয়াই, সদর উপজেলার সুতাং, বাহুবল উপজেলার করাঙ্গী, মাধবপুর উপজেলার সোনাই, বানিয়াচং উপজেলার রত্মাÑ এসব নদী একই সংকটে। কোথাও দখল, কোথাও শিল্পবর্জ্যে দূষণ, কোথাও আবার ব্যক্তিমালিকানার খপ্পরে। বানিয়াচঙ্গের শুঁটকি নদী পুরোপুরি চলে গেছে বেসরকারি মালিকানায়।

হবিগঞ্জ শহরের পুরাতন খোয়াই নদী দখল-দূষণে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা ও কৃত্রিম বন্যা। এ শহরের জন্য পুরাতন খোয়াই নদী পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। নদীটি সংরক্ষণ করে বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে নদীর সুস্থ-স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছে পরিবেশবাদী সংগঠনসহ নাগরিক সমাজ। কিন্তু খোয়াই দখলমুক্ত করার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না প্রশাসন।

নবীগঞ্জ পৌরসভার বুক চিরে বয়ে গেছে শাখা বরাক নদী। একসময়ের খরস্রোতা এই নদী দিয়ে লঞ্চ-স্টিমার চলাচল করত। কিন্তু এখন এটি সরু খাল হয়ে কোনো রকম টিকে আছে। দখল হওয়া নদীর দুই পাশে শত শত স্থাপনা দাঁড়িয়ে গেছে। অথচ এই নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জেলেপল্লী এখনও আছে, তবে নতুন পরিচয়ে। নতুন প্রজন্মের কাছে এই নদীর অতীত সম্পর্কে কোনো তথ্যই নেই।

স্থানীয় আনমনু গ্রামের ষাটোর্ধ্ব অনু মিয়া বলেন, শৈশবে নদীর দুই পাড়ে নৌকার ভিড় লেগে থাকত। এখন যেখানে আনমনু গ্রাম, সেখানে বড় খাদ ছিল। এখানে নদীর ঘূর্ণিতে কত বাঁশের মাচা ডুবেছে তার হিসাব নেই। শত শত লঞ্চ, স্টিমার, জাহাজ এই নদী দিয়ে চলত।

আনমনু গ্রামের বাসিন্দা নাবেদ মিয়া বলেন, এই নদী দিয়ে লঞ্চ, স্টিমার, জাহাজ চলাচল করত, সেটা আমাদের জানা ছিল না। এত বড় নদী এখন একটা খাল হয়ে গেছে। ভাবতেই অবাক লাগে।


পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরিপে জেলার ২২টি নদী ও ৬৩টি খালের অস্তিত্ব নথিভুক্ত করা হয়। তাদের দাবি, এখন মূলত নদীগুলোকে বাঁচাতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কয়েকটি নদীতে ড্রেজিং ও খননকাজ করা হয়েছে।

তাদের তথ্যমতে, ২০২০ সালে ৫৭৩ কোটি টাকায় হবিগঞ্জ জেলার বিবিয়ানা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্মুখে কুশিয়ারা নদীর উভয় তীরের ভাঙন রোধ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় কুশিয়ারার কিছু অংশ ছাড়াও বেশ কিছু নদী ও খাল খনন করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রকল্প নদী রক্ষার পরিবর্তে নদীকে আরও সংকুচিত করা হয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও নদী তার স্বাভাবিক রূপ ফিরে পাচ্ছে না। নবীগঞ্জের বিজনা নদী খনন প্রকল্পের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। করাঙ্গী নদীর খননে অনিয়মের অভিযোগ এনে স্থানীয়রা আন্দোলন করেও ফল পায়নি। সবগুলো প্রকল্পে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, দখল-দূষণ রোধে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যর্থতাই নদীর এই দুর্দশার মূল কারণ। প্রতিবার সরকারের বিভিন্ন সংস্থা নদী রক্ষার নামে প্রকল্প নেয়, কিন্তু সেগুলোতে জনসম্পৃক্ততা নেই। কিছুদিন হইচই করে আবার থেমে যায়।

তিনি বলেন, একসময় হবিগঞ্জ জেলায় ৫০টির বেশি নদী ছিল। কিন্তু এখনও পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে জেলায় নদীর সংখ্যা ২২টি। তার মানে অর্ধেকের বেশি নদী হারিয়ে গেছে। যেভাবে নদীর ওপর অত্যাচার চলছে, এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই হবিগঞ্জের মানচিত্র থেকে বাকি নদীও হারিয়ে যাবে। তখন হুমকিতে পড়বে প্রকৃতি-পরিবেশ ও জীবনযাত্রা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন মাহমুদ বলেন, ইতোমধ্যে জেলার নদী দখলমুক্ত করতে ৫০০টির বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। আরও স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে হাইকোর্টে মামলা থাকায় কিছু স্থাপনা সরানো যাচ্ছে না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা